ফেসবুকে ব্যবসা করছেন? এই ভুলগুলো করছেন নাতো?
বর্তমান যুগে ফেসবুক শুধু বন্ধুত্বের মাধ্যম নয়, এটি একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মও। বাংলাদেশে ছোট-বড় অনেক উদ্যোক্তা ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পণ্য ও সেবা বিক্রি করে সফল হচ্ছেন। কিন্তু কিছু ভুল ধারণা আর অজ্ঞতার কারণে অনেকেই ফেসবুকে ব্যবসা করতে গিয়ে হোঁচট খান। আপনিও যদি ফেসবুকে ব্যবসা করতে চান, তাহলে কিছু বিষয় অবশ্যই জানতে হবে। না জেনে ব্যবসা শুরু করলে লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।
আজকে আমরা আলোচনা করব সেই বিষয়গুলো নিয়ে, যেগুলো না জেনে ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করলে আপনি বিপদে পড়তে পারেন।
ফেসবুক ব্যবসার শুরু: যা জানা জরুরি
ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এই প্রস্তুতিগুলো আপনার ব্যবসাকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।
১. সঠিক পণ্য নির্বাচন না করা
ফেসবুকে ব্যবসা করার জন্য সঠিক পণ্য নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পছন্দের পণ্য হলেই সেটা ফেসবুকে চলবে এমনটা নয়। বাজারের চাহিদা, ট্রেন্ড এবং আপনার টার্গেট গ্রুপের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে পণ্য নির্বাচন করতে হবে।
- গবেষণা: কোন পণ্যের চাহিদা বেশি এবং কোনগুলো ট্রেন্ডিং, তা জানতে নিয়মিত মার্কেট রিসার্চ করুন।
- টার্গেট গ্রুপ: আপনার পণ্য কাদের জন্য, তাদের বয়স, আগ্রহ, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করুন।
- প্রতিযোগিতা: বাজারে একই ধরনের পণ্য থাকলে, আপনার পণ্যের বিশেষত্ব কী, তা খুঁজে বের করুন।
২. টার্গেট audience নির্ধারণ না করা

আপনি যদি না জানেন আপনার পণ্যটি ঠিক কাদের জন্য, তাহলে আপনার মার্কেটিং প্রচেষ্টা সফল হবে না। টার্গেট audience নির্ধারণ করতে তাদের বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান, আগ্রহ এবং আচরণ সম্পর্কে জানতে হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স | আপনার পণ্যের ক্রেতাদের সম্ভাব্য বয়সসীমা কত? |
| লিঙ্গ | আপনার পণ্যটি পুরুষ নাকি মহিলা, নাকি উভয়ের জন্য? |
| অবস্থান | আপনার ক্রেতারা কোন এলাকায় বসবাস করেন? |
| আগ্রহ | আপনার ক্রেতাদের আগ্রহের বিষয়গুলো কী কী? |
| আচরণ | তারা অনলাইনে কীভাবে কেনাকাটা করেন? |
৩. ফেসবুক পেজ অপটিমাইজ না করা
ফেসবুক পেজ আপনার ব্যবসার অনলাইন ঠিকানা। তাই এটিকে সঠিকভাবে অপটিমাইজ করা জরুরি।
- প্রোফাইল ও কভার ছবি: আপনার ব্র্যান্ডের পরিচয় বহন করে এমন ছবি ব্যবহার করুন।
- পেজের নাম: সহজ ও মনে রাখার মতো নাম দিন।
- বর্ণনা: আপনার ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন, যা গ্রাহকদের আকর্ষণ করবে।
- যোগাযোগের তথ্য: ফোন নম্বর, ইমেইল এবং ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিন।
৪. কন্টেন্ট প্ল্যানিং না করা
নিয়মিত এবং আকর্ষণীয় কন্টেন্ট পোস্ট করা ফেসবুক ব্যবসার জন্য খুবই জরুরি। কন্টেন্ট প্ল্যানিং না করলে আপনি এলোমেলোভাবে পোস্ট করবেন, যা গ্রাহকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হবে।
- কন্টেন্ট ক্যালেন্ডার: কখন কী পোস্ট করবেন, তার একটি তালিকা তৈরি করুন।
- বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট: ছবি, ভিডিও, আর্টিকেল, স্টোরি ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত পোস্ট: প্রতিদিন বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট করুন।
৫. বাজেটিং না করা
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য বাজেট তৈরি করা খুব জরুরি। বাজেট ছাড়া বিজ্ঞাপন দিলে আপনি বুঝতে পারবেন না আপনার বিনিয়োগ সঠিক পথে যাচ্ছে কিনা।
- বিজ্ঞাপন বাজেট: প্রতিদিন বা মাসের জন্য একটি বাজেট নির্ধারণ করুন।
- লক্ষ্য নির্ধারণ: বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কী অর্জন করতে চান, তা ঠিক করুন (যেমন: পেজ লাইক, ওয়েবসাইট ট্রাফিক, বিক্রি)।
- ফলাফল পর্যবেক্ষণ: নিয়মিত বিজ্ঞাপনের ফলাফল দেখুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেট পরিবর্তন করুন।
যে ভুলগুলো আপনার ব্যবসা নষ্ট করতে পারে
ফেসবুকে ব্যবসা করার সময় কিছু সাধারণ ভুল আছে, যেগুলো আপনার ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ভুলগুলো কী কী:
১. নকল বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করা
ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করা ব্যবসার মূল ভিত্তি। নকল বা নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতারা আপনার ওপর আস্থা হারাবে, যা আপনার ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর।
- মান নিয়ন্ত্রণ: সবসময় ভালো মানের পণ্য বিক্রি করুন।
- সততা: পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন।
- রিভিউ: গ্রাহকদের কাছ থেকে আসা রিভিউগুলো গুরুত্বের সাথে নিন এবং তাদের সমস্যা সমাধান করুন।
২. গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া
গ্রাহকরা আপনার পণ্য বা সেবা সম্পর্কে জানতে চেয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। তাদের প্রশ্নের দ্রুত এবং সঠিক উত্তর দেওয়া আপনার দায়িত্ব। উত্তর না দিলে তারা মনে করতে পারে আপনি তাদের প্রতি উদাসীন, যা আপনার ব্যবসার জন্য খারাপ।
- নিয়মিত নজর রাখা: পেজের মেসেজ এবং কমেন্ট সেকশন নিয়মিত দেখুন।
- দ্রুত উত্তর: যত দ্রুত সম্ভব গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দিন।
- বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ: গ্রাহকদের সাথে সবসময় নম্র এবং বন্ধুত্বের সাথে কথা বলুন।
৩. অতিরিক্ত প্রচার করা
অতিরিক্ত প্রচার করলে গ্রাহকরা বিরক্ত হতে পারে। সবসময় চেষ্টা করুন তথ্যপূর্ণ এবং শিক্ষামূলক কন্টেন্ট তৈরি করতে, যা গ্রাহকদের জন্য মূল্যবান।
- ব্যালেন্স: প্রচারমূলক কন্টেন্টের পাশাপাশি শিক্ষামূলক এবং বিনোদনমূলক কন্টেন্টও দিন।
- আকর্ষণীয় কন্টেন্ট: এমন কন্টেন্ট তৈরি করুন যা গ্রাহকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
- নিজেকে গ্রাহকের জায়গায় বসান: ভাবুন, আপনি একজন গ্রাহক হলে কী দেখতে চাইতেন।
৪. অন্যের কন্টেন্ট কপি করা
অন্যের কন্টেন্ট কপি করা একটি খারাপ অভ্যাস। এটি আপনার ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, কারণ গ্রাহকরা মৌলিক এবং নতুন কিছু দেখতে চান।
- নিজস্ব কন্টেন্ট: নিজের আইডিয়া থেকে কন্টেন্ট তৈরি করুন।
- নতুনত্ব: সবসময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন।
- অনুপ্রেরণা: অন্যের কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হন, কিন্তু সরাসরি কপি করবেন না।
৫. প্রতিযোগীদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা
প্রতিযোগীরা আপনার ব্যবসার অংশ। তাদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করলে আপনার নিজের প্রতি মানুষের খারাপ ধারণা তৈরি হতে পারে।
- সম্মান: প্রতিযোগীদের সম্মান করুন।
- ইতিবাচক থাকুন: নিজের ব্যবসার ভালো দিকগুলো তুলে ধরুন।
- সহযোগিতা: সম্ভব হলে প্রতিযোগীদের সাথে সহযোগিতা করুন।
ফেসবুক বিজ্ঞাপনের খুঁটিনাটি
ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি জটিল প্রক্রিয়া। কিছু বিষয় না জেনে বিজ্ঞাপন দিলে আপনার টাকা নষ্ট হতে পারে।
১. ভুল target audience নির্বাচন করা
বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় সঠিক target audience নির্বাচন করা খুব জরুরি। ভুল target audience নির্বাচন করলে আপনার বিজ্ঞাপন সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে না, ফলে আপনার বিনিয়োগ ব্যর্থ হবে।
- Demographics: বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা এবং পেশা অনুযায়ী audience নির্বাচন করুন।
- Interests: গ্রাহকদের আগ্রহের বিষয়গুলো চিহ্নিত করুন।
- Behaviors: তারা অনলাইনে কী ধরনের আচরণ করে, তা জানুন।
২. দুর্বল visual ব্যবহার করা
বিজ্ঞাপনের ছবি বা ভিডিও যদি আকর্ষণীয় না হয়, তাহলে মানুষ সেটির দিকে তাকাবে না। তাই visual-এর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
- উচ্চResolution: পরিষ্কার এবং ঝকঝকে ছবি ব্যবহার করুন।
- আকর্ষণীয় ডিজাইন: এমন ডিজাইন ব্যবহার করুন যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- ব্র্যান্ডিং: আপনার ব্র্যান্ডের লোগো এবং রং ব্যবহার করুন।
৩. দুর্বল Call to Action ব্যবহার করা
Call to Action (CTA) হলো সেই বোতাম যা ব্যবহার করে গ্রাহকরা আপনার পণ্য কিনতে বা আপনার ওয়েবসাইটে যেতে পারে। দুর্বল CTA ব্যবহার করলে গ্রাহকরা বুঝতে পারবে না তাদের কী করতে হবে।
- স্পষ্ট CTA: “কিনুন”, “জানতে চান” অথবা “যোগাযোগ করুন” এর মতো স্পষ্ট CTA ব্যবহার করুন।
- আকর্ষণীয় ভাষা: CTA-এর ভাষা যেন গ্রাহকদের আগ্রহী করে তোলে।
- উপযুক্ত স্থান: CTA বোতামটি এমন জায়গায় রাখুন, যা সহজে চোখে পড়ে।
৪. বাজেট অপটিমাইজ না করা
বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় বাজেট অপটিমাইজ করা খুব জরুরি। বাজেট অপটিমাইজ না করলে আপনার বিজ্ঞাপন বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে না, ফলে আপনি ভালো ফলাফল পাবেন না।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: বিজ্ঞাপনের ফলাফল নিয়মিত দেখুন।
- প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন: বাজেট এবং target audience প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করুন।
- A/B Testing: বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন তৈরি করে পরীক্ষা করুন, কোনটি ভালো ফল দিচ্ছে।
৫. মোবাইল অপটিমাইজেশন না করা
অধিকাংশ মানুষ মোবাইল দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করে। তাই আপনার বিজ্ঞাপন মোবাইল ডিভাইসের জন্য অপটিমাইজ করা উচিত।
- মোবাইল ফ্রেন্ডলি: আপনার ওয়েবসাইট এবং ল্যান্ডিং পেজ মোবাইল ফ্রেন্ডলি হতে হবে।
- ছোট আকারের ছবি: মোবাইলের জন্য ছোট আকারের ছবি ব্যবহার করুন, যা দ্রুত লোড হয়।
- ভিডিও অপটিমাইজেশন: মোবাইলের জন্য ভিডিও অপটিমাইজ করুন।
আইন ও নিয়মকানুন
বাংলাদেশে ফেসবুকে ব্যবসা করার কিছু আইন ও নিয়মকানুন আছে, যেগুলো আপনার জানা উচিত।
১. ট্রেড লাইসেন্স
বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে ট্রেড লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। এটি আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রমাণ।
- আবেদন: স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করুন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন।
- নবায়ন: প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করুন।
২. ভ্যাট ও ট্যাক্স
আপনার ব্যবসার ওপর ভ্যাট (VAT) ও ট্যাক্স প্রযোজ্য হতে পারে। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা না থাকলে আপনি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন।
- ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন: আপনার ব্যবসার জন্য ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করুন।
- নিয়মিত পরিশোধ: সময় মতো ভ্যাট ও ট্যাক্স পরিশোধ করুন।
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: এই বিষয়ে একজন হিসাবরক্ষকের পরামর্শ নিতে পারেন।
৩. ভোক্তা অধিকার
ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী, গ্রাহকদের অধিকার রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব। কোনো গ্রাহক প্রতারিত হলে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
- সঠিক তথ্য: পণ্যের গুণাগুণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিন।
- ফেরত নীতি: একটি সহজ এবং গ্রাহক-বান্ধব ফেরত নীতি তৈরি করুন।
- অভিযোগ নিষ্পত্তি: গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করুন।
৪. কপিরাইট আইন
অন্যের তৈরি করা ছবি, ভিডিও বা কন্টেন্ট ব্যবহার করলে কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।
- নিজস্ব কন্টেন্ট: নিজের তৈরি করা কন্টেন্ট ব্যবহার করুন।
- অনুমতি: অন্যের কন্টেন্ট ব্যবহার করতে হলে তাদের অনুমতি নিন।
- কপিরাইট আইন: কপিরাইট আইন সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
৫. সাইবার নিরাপত্তা
আপনার ফেসবুক পেজ এবং গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষিত রাখা আপনার দায়িত্ব। সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে বাঁচতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড: আপনার ফেসবুক পেজের জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত আপডেট: আপনার কম্পিউটার এবং মোবাইলের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করুন।
- ফিশিং থেকে সাবধান: ফিশিং লিঙ্ক থেকে সাবধান থাকুন।
ফেসবুক ব্যবসার কিছু দরকারি টিপস

ফেসবুকে ব্যবসাকে সফল করার জন্য কিছু অতিরিক্ত টিপস নিচে দেওয়া হলো:
১. গ্রাহকদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন
গ্রাহকদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করলে তারা আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং আপনার পণ্য কিনতে উৎসাহিত হবে।
- যোগাযোগ: গ্রাহকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
- তাদের মতামত: তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিন।
- কৃতজ্ঞতা: তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
২. ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করুন
একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করে আপনি আপনার গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারেন এবং তাদের মতামত জানতে পারেন।
- সদস্য সংগ্রহ: আপনার টার্গেট audience-এর সদস্যদের গ্রুপে যোগ দিন।
- নিয়মিত আলোচনা: গ্রুপে নিয়মিত আলোচনা করুন এবং গ্রাহকদের মতামত নিন।
- এক্সক্লুসিভ অফার: গ্রুপের সদস্যদের জন্য বিশেষ অফার দিন।
৩. Influencer মার্কেটিং
Influencer মার্কেটিং-এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে আপনার পণ্যের প্রচার করতে পারেন।
- সঠিক Influencer: আপনার পণ্যের সাথে যায় এমন Influencer নির্বাচন করুন।
- তাদের সাথে যোগাযোগ: তাদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার পণ্যের প্রচারের জন্য প্রস্তাব দিন।
- ফলাফল পর্যবেক্ষণ: Influencer মার্কেটিং-এর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করুন।
৪. লাইভ ভিডিও
লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে আপনি সরাসরি আপনার গ্রাহকদের সাথে কথা বলতে পারেন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন।
- নিয়মিত লাইভ: নিয়মিত লাইভ ভিডিও করুন।
- আকর্ষণীয় বিষয়: লাইভ ভিডিওতে আকর্ষণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।
- গ্রাহকদের প্রশ্ন: গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তর দিন।
৫. কাস্টমার সার্ভিস
ভালো কাস্টমার সার্ভিস আপনার ব্যবসাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।
- দ্রুত উত্তর: গ্রাহকদের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিন।
- বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ: গ্রাহকদের সাথে নম্র এবং বন্ধুত্বের সাথে কথা বলুন।
- সমস্যা সমাধান: গ্রাহকদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করুন।
FAQ
ফেসবুকে ব্যবসা নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন এবং তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. ফেসবুকে কী ধরনের ব্যবসা করা যায়?
ফেসবুকে আপনি যেকোনো ধরনের বৈধ ব্যবসা করতে পারেন। পোশাক, খাবার, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, শিক্ষা, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা বিক্রি করা যায়।
২. ফেসবুক পেজ খুলতে কি টাকা লাগে?
না, ফেসবুক পেজ খোলা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে, পেজের প্রচার এবং বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা খরচ করতে হবে।
৩. ফেসবুক থেকে আয় করার উপায় কী?
ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে, স্পন্সরড পোস্ট করে এবং ফেসবুক বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা যায়।
৪. ফেসবুক ব্যবসার জন্য কী কী legal document দরকার?
ফেসবুক ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় legal document দরকার হতে পারে।
৫. কিভাবে ফেসবুক পেজের লাইক বাড়াবো?
আকর্ষণীয় কন্টেন্ট পোস্ট করে, নিয়মিত পেজে অ্যাক্টিভ থেকে, ফেসবুক বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং অন্যান্য পেজের সাথে সহযোগিতা করে লাইক বাড়ানো যায়।
শেষ কথা
ফেসবুকে ব্যবসা করা সহজ, কিন্তু সফল হওয়াটা কঠিন। বাংলাদেশে ফেসবুকে ব্যবসা করতে হলে আপনাকে অবশ্যই উপরের বিষয়গুলো জানতে হবে এবং মেনে চলতে হবে। মনে রাখবেন, সততা, ধৈর্য এবং সঠিক পরিকল্পনা আপনার ব্যবসাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আপনি যদি এই বিষয়গুলো অনুসরণ করেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে ফেসবুকে একটি সফল ব্যবসা তৈরি করতে পারবেন। আপনার যাত্রা শুভ হোক!
যদি আপনার এই বিষয়ে আরো কিছু জানার থাকে, তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।
